ছবিটি দেখে সিনেমার শুটিং মনে হতে পারে। বাঘ এবং মানুষের এমন সম্পর্কের চিত্র কেবল সিনেমাতেই দেখা যায়। কিন্তু বাস্তবে তা কি কখনো কল্পনা করা যায়? হুম, কল্পনাতীত এমন সম্পর্ক বাস্তবেই ঘটেছে।
আমরা সবাই জানি মনহীন মানুষ পশুর সমান। কিন্তু সুন্দর মন বিশিষ্ট মানুষকে পশুও চিনতে পারে। তার কাছে গেলে যে সে তাকে ভালবাসা দিবে, তার কোন ক্ষতি করবে না সেটা বুঝার জ্ঞান পশুরও আছে। হ্যাঁ, বলছিলাম আমাজন বনের বিপর্যস্ত কিছু প্রাণির কথা। মানুষের ভালবাসায় কিছু কিছু প্রাণী ফিরে ফেল তাদের প্রাণের সতেজতা।
সম্প্রতি আমাজন বনে ভয়াবহ একটি দাবানল সৃষ্টি হয়। যা প্রথমে ছোট আকারে থাকলেও পরবর্তীতে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
 |
| আগুনের ভয়াবহতায় জলের মাধ্যে দুটি হরিণ। |
যার ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হয় বনজ সম্পদ। অনেক বনজ প্রাণী দাবানলের আগুনের সাথে লড়াই করে মারা যায়।
 |
| দাবানলের কবলে পড়ে ভ্রষ্ট হয়ে যাওয়া একটি খরগোশ। |
কিছু প্রাণী এই দাবানল থেকে বাঁচার চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা পাননি।
 |
| শরীরে আগুন নিয়ে লোকালয়ে পৌঁছে যাওয়া এক হাতি। |
 |
| দাবানলের আগুনে শিকার একটি হরিণ। |
প্রাণীদের বাসভূমি হচ্ছে বন। হঠাৎ করে সেই বন পশুদের আর্তনাদে বন ভেসে যায়।
 |
| সন্তানকে কোলে নিয়ে আর্তনাদরত এক বানর। |
চারদিকে ভয়াবহ অগ্নি আর পশুদের বাঁচার চেষ্টা এমন চিত্র যখন অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে তখন সাড়া বিশ্বের মানুষের বিবেক নাড়া দেয়। পশুদের রক্ষার্থে সকলে আর্তনাদ, অর্থ ডোনেট এবং কিছু সেচ্ছাসেবী সংঘটন এগিয়ে আসে। এবং ব্রাজিল সরকার প্রাণীদের বাঁচানোর জন্য কিছু সেনা সদস্য পাঠায়। তারা মুমূর্ষু প্রাণীদেরকে উদ্ধার করে। তখনো দাবানল জ্বলছে। তারপর আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাজনের আকাশে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টিতে দাবানলের আগুন নিভে যায়। হয়ত বা কিছুটা স্বস্তি ফিরে পায় পশুগুলো। তারপর বনের ভেতর প্রবেশ করে সেচ্ছাসেবী সংঘটন ও সেনা সদস্যরা। মুমূর্ষু অবস্থা থেকে উদ্ধার করে অসংখ্য প্রাণী। তাদেরকে চিকিৎসা দেয়।
 |
| একজন সেচ্ছাসেবী একটি অসুস্থ প্রাণীকে পানি পান করাচ্ছে। |
 |
| একটি বানরকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য নিয়ে যাচ্ছে। |
অবশেষে পৃথিবীর ফুসফুস রক্ষা পায়। মানুষ ভালোবাসা পশুরাও বুঝতে পায়।
No comments